শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর দুমকির বিভিন্ন নদ-নদীতে মা ইলিশ শিকারের তোড়জোড় চলছে। অক্টোবরের শুরুতেই নদীপাড়ে যেন ব্যস্ততার হাওয়া— জাল মেরামত, নৌকা তৈরির শব্দ আর গোপন বৈঠকের আড়ালে চলছে শিকারের প্রস্তুতি।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ, বিক্রি ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু দুমকির পায়রা, পান্ডব, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জেলেরা নীরবে প্রস্তুত নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোহালিয়া নদীর বাহেরচর, আংগারিয়া, পাতাবুনিয়া, জেলেপাড়া, পাংসিঘাট, পায়রা নদীর পশ্চিম আঙ্গারিয়া, লেবুখালী, আলগি, হাজিরহাট ও রাজগঞ্জের জেলেপল্লিগুলোতে শতাধিক নৌকা ইতোমধ্যে সাজানো হয়েছে নদীতে নামার অপেক্ষায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন—
“বিকল্প কর্মসংস্থান নেই, চালের বরাদ্দও খুব কম। পরিবার নিয়ে বাঁচব কিভাবে? তাই বাধ্য হয়েই মাছ ধরতে নামার পরিকল্পনা করছি।”
তাদের দাবি, সরকার ঘোষিত ভিজিএফ চাল বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় এবার অভিযান হবে আরও কঠোর। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে, জব্দ হবে জাল-নৌকা।
দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন,
“আমরা ইতোমধ্যে দুটি টিম গঠন করেছি নিয়মিত তদারকির জন্য। জেলে এলাকাগুলোতে ইলিশ রক্ষায় লিফলেট বিতরণ করছি, এমনকি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও তাদের সচেতন করছি। তারপরও কেউ আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমাদের টিমের কেউ যদি এতে যুক্ত থাকে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মা ইলিশ বাঁচাতে আমরা কোনো ছাড় দেব না।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, বিকল্প জীবিকার নিশ্চয়তা না থাকলে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। তাতে একদিকে যেমন ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হতে পারে, অন্যদিকে নদীপাড়ের মানুষের জীবনও পড়বে হুমকির মুখে।